কমান্ড দূরে একটা জংগলে তখন গরমের মৌসম ছিল এজন্য সকল পাখিরা মিলে বৃষ্টিতে খুব আনন্দ করছিল।
কমান্ড আর সকল পাখিদের ঘরে খাবার মজুদ ছিল, তাই বৃষ্টির কারণে খাদ্য জোগাড় নিয়ে কারোর কনো চিন্তা ছিলনা।
কমান্ড এরপর রাত হয়ে যায়, কিন্তু ঝড় বৃষ্টি থামছেনা আরো বেড়ে চলেছে,
কমান্ড এদিকে টুনি ও তার ছেলে তাদের ঘরে জানলার পাশে দাড়িয়ে বৃষ্টি উপভোগ করছে,
খোকা মা আপনি যখন ছোট ছিলোন তখোন কি এমন জোড়ে বৃষ্টি দেখেছিলেন?
টুনি হ্য খোকা… হ্যা বিশাল বড় ঝড় তুফান দেখেছি, একবার তো এতো বেশি বৃষ্টি হয়েছিল যে পানির চাপে আমাদের ঘর ভেঙ্গ গিয়েছিল..
খোকা মা মা তার পর কি হয়েছিল??
টুনি হয়েছিল কি আমার বাবা খুব সাহসি ছিল, তিনি সেই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে গভীর জংগলের ভিতরে গিয়েছিল, সেখান থেকে বড় বড় কলা গাছের পাতা নিয়ে এসেছিল, আর ঘর ঠিক করেছিল। আর বৃষ্টি থেকে আমাদের রক্ষা করেছিল।
খোকা মা. বৃষ্টি যদি এভাবে হতেই থাকে তাহলে কি পানিতে আমাদের ঘর ডুবে যাবে???
টুনি না খোকা , আমাদের ঘর তো বড় গাছের উপরে এখানে পানি আসবে না।
খোকা মা মা আমার জীবণে এতো তেজ বৃষ্টি এই প্রথম দেখলাম।
টুনি আমি জানি খোকা.তুমি এই বৃষ্টিতে ভয় পাচ্ছ, কিন্তু বাবা ভয় পেওনা কিছু হবেনা। তুমি ঘুমিয়ে যাও, সকালে বৃষ্টি থেমে যাবে, তখন আমরা নদীর পাড়ে যাবো, নদীতো পানিতে ভরে যাবে।
কমান্ড তারা মা ছেলে কথা বলতেছিল,তখন টুনি দেখে বৃষ্টির পানি সত্তিই তাদের ঘরে চলে এসেছে,
টুনি খোকা বৃষ্টির পানি তো আমাদের ঘরে চলে এসেছে। আমার তো বিশ্বাস হচ্ছেনা যে পানি এতো বেড়ে গেছে আমাদের জঙ্গলে, তুমি বসো আমি একটু বাইরে গিয়ে দেখি,,
কমান্ড এরপর টুনি বাইরে বের হলো, আর সে বাইরে এসে দেখলো বৃষ্টির পানি তাদের ঘর পর্যন্ত পৌছে গিয়েছে, তা দেখে সে চিন্তিত হয়ে পড়ল,
কমান্ড আর সে দেখল সকল পাখি ঘরের বাইরে চলে এসেছে. তাদের সবার ঘর পানিতে ডুবেগিয়েছে। এজন্য টুনটুনি খুব ভয় পেয়েছে
টুনি খোকা…তাড়াতাড়ী বাইরে বের হও .পানি অনেক উচুতে চলে এসেছে,
কমান্ড আর টুনটুনির ছেলে খোকা তার মায়ের কাছে চলে আসল,
খোকা মা এখান কি হবে আমাদের,
টুনি বেটা তুমি কোন চিন্তা করোনা ..আমাদের কিছু হবে না। সব পাখিদের ঘর ডুবে গেছে. আমার সকালে কোনো উপায় বের করবো।
কমান্ড তারা সারা রাত গাছে কাটিয়ে দিল, আর বৃষ্টিও সারা রাত ধরে হয়ে চলেছে. তাই সব পাখি সকাল হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগল
কমান্ড এরপর লম্বা রাত শেষ হয়ে গেল, আর সব পাখি একটা গাছের উপরে গিয়ে বসল
টুনি আমি আর আমার খোকা সারারাত এখানে আছি .যখন আমাদের বাড়িতে পনি ঢুকেছিল।
টিয়া জঙ্গলে অনেক পানি হয়েগিয়েছে, সব পাখিদের ঘর বাড়ি পানিতে ডুবে গিয়েছে, আর আমাদের খাদ্য-খাবার ও পানিতে ভেসে গিয়েছে।
কবুতার এখন আমরা এভাবে বেশিক্ষন থাকতে পারব না, আমাদের অন্য জংগলে চলেযেতে হবে।
টুনি বন্ধুরা !!! আমাদের বৃষ্টি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যখন বর্ষা থামবে তখন পানি নিচে নেমে যাবে, তখন আমাদের বাড়ি ঘর আবার তৈরী করে নেব।
গোচি তার মধ্যে তো আমরা না খেয়ে মারা যাবো,
কাল্লু অন্য জঙ্গলে যাওয়া ভালো হবে
টুনি আপনারা সবাই আমার কথা শোনেন.. আমরা এ জংগল ছেড়ে চলে যেতে পারি না, এটা আমার বাবা মায়ের ভিটা, এখানে আমি আমার বাবা মায়ের সুঘ্রাণ পায়, আর তা ছারা পাশের জংগলে যে শকুন রয়েছে সে কখনো তাদের পাশে আমাদের ঘর বানাতে দেবে না।
টিয়া টুনি ঠিক বলছে ও শকুন খুব শয়তান, আমরা একটা কাজ করি আমরা পাহারের দিকে যায় ,ওখানে তো পানি পৌছাবে না, যতদিন পানি না কমে ততদিন আমরা পাহারে দিন কাটাবো।
কমান্ড আর সব পাখি টিয়ার কথা মেনে নিল আর পাহারের দিকে চলে গেল।
কমান্ড বৃষ্টি আরো জোরে হচ্ছে, সব পাখিদের খিদেতে নাজেহাল অবস্থা। আর হঠাৎ করে কবুতারের চোখ একটু দূরে গাছের উপর গিয়ে পড়ল সেখানে কিছু ফল হয়েছে,
কবুতার সবাই দেখো সামনে ঐ গাছে কিছু ফল হয়েছে, চলো সবাই ওখানে যায়
কমান্ড আর সব পাখি সেই গাছটির কাছে গেল। এবং সবাই ফল ভাগ করে খেতে চাইল, কিন্তু গোচি বল্ল
গোচি শোনো সবাই.. আমরা তোমাদের সবার চেয়ে বড় পাখি, আর এখানে ফল কম আছে তাই এই সব ফল আমরা খাবো, অমরো অন্য জাইগাতে গিয়ে খাবার খুজে নাও
কমান্ড সব পাখি গোচির কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গেল,
কবুতার সবার আগে আমি এই ফল দেখেছি এজন্য আমরা সবাই মিলে এই ফল খাবো।
টুনি গোচি বোন .. এই বিপদরে সময় আমাদের সবাইকে একসাথে মিলেমিশে থাকতে হবে, কেন তুমি ঝগড়া করছ?
গোচি তোমরা না খেয়ে মরগে, তাতে আমার কি!! বৃষ্টি থামুক বা না থামুক ,এই ফল আমি একা খাবো আর কাওকে দিব না।
টুনি কবুতার ছেড়ে দাও এসব, চলো আমরা আরো সামনে যায়,হতে পারে আমরা আরো ফল পেতে পারি।
কমান্ড সব পাখি সেখান থেকে চলে গেল আর গোচী খুব খুশি হলে সে তো সব পাখিদের তাড়িয়ে দিয়েছে,
কাল্লু গোচি এটা কি হলো ..যে তুমি সব পাখিদের খেতে দিলে না??
গোচি বৃষ্টি এতো হচ্ছে যে সব গাছ পানির নিচে চলে গেছে,আর এই গাছ তো পাহারের উপরে এজন্য বেচে রয়েছে. যদি আমরা একা খাই তাহলে ২-৪ দিন এমনিতে চলে যাবে,
কমান্ড আর এটা বলে গোচী ফল খেতে লাগলো,
কমান্ড আর বাকি পাখি একটু সামনে গিয়ে পাহারের উপর একটা গুহা দেখতে পেল, আর তারা সবাই সেই গুহার ভিতরে চলে গেল,
টুনি দেখেছ গোচি আমাদের ফল খেতে দিল না কিন্তু আল্লা আমাদের বৃষ্টি থেকে বাচার জন্য সুরক্ষিত একটা জায়গা মিলিয়ে দিল,
টিয়া এখন যত বেশি বৃষ্টি হোক আমাদের কোন চিন্তা নেই।
কমান্ড যখন তারা বসে কথা বলছিল তখন খোকার নজর পাশি রাখা একটা সিন্দুক উপর গিয়ে পড়ল
খোকা মা ওই পাশে চারকোনা ওটা কি?
টুনি আরে খোকা এটা তো একটা সিন্দুক ,,এতে মানুষ জিনিস পত্র লুকিয়ে রাখে, চলো আমরা গিয়ে দেখি,
কমান্ড আর যেই টুনি সিন্দুক খুললো আর খুশিতে তিনখান হয়ে গেল
টুনি খাবার. এই সিন্দুকে অনেক খাবার রয়েছে..
কমান্ড আর কবুতার ও টিয়া সেখানে আসলো..
কবুতার এটা দেখে মনে হচ্চে কোন মানুষ এটা রেখে গেছে।
টুনি সে যাই হোকনা কেন, এটা আল্লা আমাদের দয়া করেছেন, কেননা আমার গোচির মত লোভ করিনি
কমান্ড তারা সবাই মিলে সে খাবার খেতে লাগলো।
টিয়া গোচির মত কাল্লুও কম না . সে যদি চাইতো তাহলে গোচীকে বোঝাতে পারতো।আমারা সবাই কি বিপদে আr গোচীর কেবল নিজের চিন্তা।
কমান্ড তারা সবাই এমন কথা বলতেছিল আর তখন কাল্লুও তাদের কাছে চলে আসলো,
কমান্ড কিন্তু কাল্লুর চোখে পানি ছিল সে কান্না করছিল।
টুনি কাল্লু ভাইয়া কি হয়েছে ?? আর গোচী কোথায়?
কাল্লু টুনি.. গোচি মরা গেছে, গোচি মারা গেছে টুনি..
কবুতার এ তুমি কি বলছ কাল্লু ?? কিছু সময় আগেয় তো সে ভাল সুস্থ দেখে আসলাম.
কাল্লু ওই গাছের ফল তো অনেক বিষাক্ত ছিল , তোমরা চলে আসলে. গোচী সেই ফল খেলো অমনি তার পেটব্যাথা শুরু হলো আর কিছু সময় এর মধ্যে গোচী মারা গেলো।
টিয়া কাল্লু তুমি তো খাওনি না সেই ফল?
কাল্লু না আমি তো এখোনো কিছুই খাইনি।
কমান্ড আর সব পাখি এটা ভাবছিল যে গোচি তার নিজের জীবণ দিয়ে তাদেরকে বাচিয়েছে. নাকি তাদের সাথে ঝগড়া করেছে!!
টুনি এমন টাওতো হতে পারে যে গোচী অনুমান করেছিল ওই ফলগুলো বিশাক্ত,এজন্য ও ফল আমাদের খেতে দেয়নি।
কমান্ড কিন্তু কাল্লু চুপ করেছিল, আর সব পাখি কাল্লুকে খাবার খেতে দিলো, আর কিছু দিন তারা ওই গুহাতে কাটাতে লাগল
কমান্ড ঘটনা এখানে শেষ নয় এর পর, এম বি বি এস ডাঃ ছাগল সাহেব ভেলায় চরে পাহারের দিকে যাচ্ছিলেন,,,
ছাগল মেহহ সরকার আমাকে পশুসেবা করার জন্য এখানে পাঠিয়েছে,,, কিন্তু একটা পশুও তো পেলাম না ঐতো একটা পাখি ..তাহলে আজ পাখি সেবাই করি,হহ,,মেহহ
কমান্ড এর পর ছাগল কাকটির কাছে গেল....
ছাগল মেহহহ আরে এর কি হয়েছে??? কথা বলো কাক তোমার কি হয়েছে???
ছাগল আরে এ তো কথায় বলছে না,,, একটু চেক করে..
কমান্ড সে পেশার মাপল কিন্তু কিছুই বুঝতে পারল না,,,
ছাগল কাকের মনে হয় পেশার থাকে না,, মেহহহ... তাহলে হার্ডবিট দেখি......
ছাগল এই তো মেহহহ এর হার্ডবুট আছে..... তাহলে কি করি কি করি... গরুর যে ইনজেক্শন টা আছে একে এটাই দিয়ে দি দেখি কি হয় মেহহহ.
কাল্লু আ.....এত মোটা কি রে......
ছাগল এটা গরুর ইনজেকশন..
কাল্লু এই ছাগল ডাক্টার আমি গরু নাকি??যে তুই আমাকে গরুর ইনজেকশন দিয়ে বাচালি।
ছাগল না... আমি মেডিকেল বয়ে পড়েছি,, মরা গরু কাকে খায়, তার মানে কাকের গায়ে গরুর গোশত, তাই তো তোকে ওটা দিয়েই বাচাইলাম।
কাল্লু তোরে কিছু বলি রে... তাহে তো মানুষ গরু না খেয়ে বিনা পয়সায় কাক ধরে খেত,,,, হাম বা...
কমান্ড কাক তার শিং দিয়ে দিলো এক গুতো, ছাগলের পেট লেগে হয়ে গেল ফুটো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন